করোনা দেহ আটকে লাগামছাড়া বিল আদায়ে রুগী পরিবারকে চাপ বেসরকারি হাসপাতালের
দি নিউজ লায়ন; কোভিডে মৃতদেহ আটকে লাগামছাড়া বিল আদায়ে রুগী পরিবারকে চাপ বেসরকারি হাসপাতালের। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মৃত বাবার দেহ হাতে পেলেন ছেলে। সরকারি নির্দেশিকাকে অমান্য করে কোভিড শয্যা পেতে এক লাখ টাকা ধার্য্য করছে শিলিগুড়ি কলেজপাড়ার নন্দলাল বসুর সরণির একটি বেসরকারি নার্সিংহোম। একাধিকবার রুগী পরিবারের তরফে এই অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি শিলিগুড়ি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডেরই এক বাসিন্দা কোভিড শয্যা পেতে হলে তার বাবদ ৯০ হাজার টাকা দাবি করছে হাসপাতাল সে অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
আর এবারে ভর্তির সময়তে এক লক্ষ টাকা অগ্রিম সহ বে-লাগাম বিলের অভিযোগ উঠলো শিলিগুড়ির ওই বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১৮নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা অরিন্দম সরকার জানান মে মাসে তারা সপরিবারে কোভিডে আক্রান্ত হন। মে মাসের ২তারিখে তার বাবা,মা ও দাদাকে ভর্তি করা হয় কলেজপাড়ার ওই হাসপাতালে।২০'শে মে সেখানেই মৃত্যু হয় তার মায়ের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৭লক্ষ ৩১হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয়। সোমবার মায়ের মৃত্যুর চার দিনের মাথায় মৃত্যু হয় তার বাবার। তার বাবার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক লক্ষ টাকা সরকারি নির্দেশ ভেঙে অগ্রিম নেন ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে তার দাদা সুস্থ্য হন, তার বাবদ ওই বেসরকারি হাসপাতাল ৫লাখ টাকার বিল ধার্য্য করে। অরিন্দম বাবু জানান তার দাদার চিকিৎসার বিলের ক্ষেত্রে বিশাল অসঙ্গতি চোখে পড়ে তাদের। সেখানে দেখা যায় মাত্র ২৪ঘন্টা রুগীকে অক্সিজেন দেওয়া হলেও বিলে ৫৬ ঘন্টা অক্সিজেন প্রদানের উল্লেখ্য করে অর্থ ধরা হয়েছে। কোভিডে ব্যবহৃত ওষুধপত্রের লাগামহীন ভাবে বিল তৈরি করা হয়েছে ৪৬০০০টাকার। তবে তখনও ওই হাসপাতালে তার বাবা ভর্তি রয়েছেন তাই বিতর্কে জড়াননি তারা। সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বাবার মৃত্যুর খবর দেয় পরিবারকে। ৮লক্ষ ৩১হাজার টাকার বিল মেটানোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রুগী পরিবারকে চাপ দিতে লাগে। অথচ এত লক্ষ টাকার কি চিকিৎসা হয়েছে তা কোন তথ্যই রুগী পরিবারকে দেয়নি ওই হাসপাতাল।
ইন্স্যুরেন্স দিয়ে কোনরকমে ৩লাখ টাকার বিল মুকুব করেন তারা। তবে বকেয়া ৫লক্ষ টাকা না মেটালে হাসপাতাল কোভিডে মৃতের দেহ দিতে অস্বীকার করে মা বাবা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া দুই ছেলেকে।তারা জানান হাসপাতালকে অনুরোধ করা হয় এই একই হাসপাতালেই পরিবারের তিনজন রুগীর কোভিড চিকিৎসা বাবদ ১৭লক্ষ টাকা বিল হয়েছে। কিছুটা মুকুব করুন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রীতিমতো দেহ আটকে রুগী পরিবারকে ক্রমাগত চাপ দিতে লাগেন। এমনকি মৃত রুগীর দেহ আটকে ইএমআইয়ের ব্যবসায়ীক প্রস্তাব রুগী পরিবারকে দেয় ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাতে মৃত রুগীর চিকিৎসা বাবদ বসছে সুদের হিসেবেও অভিযোগ রুগী পরিবারের। বিষয়টি দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি রঞ্জন সরকারকে জানান অসহায় পরিবারটি।
রঞ্জন বাবুর সহায়তায় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে যায় অভিযোগ। আর এরপরই জেলা প্রশাসনের তরফে চাপ আসতেই কোভিডে মৃতদেহ ছাড়তে বাধ্য হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে জেলা প্রশাসনের চাপের মুখেও ওই বেসরকারি হাসপাতাল রীতিমতো হুমকি দিতে লাগেন রুগী পরিবারকে। মৃতের ছোট ছেলে অরিন্দম সরকার জানান জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের দেহ ছাড়তে হয় সে সময়ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মানসিকভাবে আমাদের চাপ সৃষ্টি করতে লাগে। তারা বলেন এরফল ভালো হবে না। পরে দেখে নেবো। মামলা করবো তখন আপনাদের চিকিৎসার বকেয়া পাঁচ লাখ টাকাও দিতে হবে আবার আইনের চক্করে মোটা টাকাও খোঁয়াতে হবে রীতিমতো হুমকির সুরে কলেজপাড়ার ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।

Post a Comment